মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫

ইউনুস সরকারে ৯০ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট! জরিপে আইআরআই


ঢাকা, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫: দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের প্রতি জনগণের সমর্থন নিয়ে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যদিও সরাসরি কোনো একক জরিপে "৯০ শতাংশ সন্তুষ্টির" নির্দিষ্ট উল্লেখ খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার জরিপে দেখা যাচ্ছে জনগণের বিশাল একটি অংশ এই সরকারের কার্যক্রমে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউট (IRI)-এর সর্বশেষ জরিপগুলোতে এই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার চিত্র উঠে এসেছে।
 * IRI জরিপ (নভেম্বর ২০২৫): সরাসরি ৯০ শতাংশ না হলেও, এই জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয় ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকারের কার্যক্রমে দেশের অধিকাংশ মানুষ সন্তুষ্ট। প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে আশাবাদী বলে উল্লেখ করা হয়।
 * Innovision Consulting জরিপ (সেপ্টেম্বর ২০২৫): এই বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জরিপে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে ৭৮ শতাংশের বেশি মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সরকারের প্রেস সচিবও এরপরে জানিয়েছিলেন, ১৪তম মাসে এসেও প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের সমর্থন থাকা সরকারের কার্যক্রমে জনগণের সন্তুষ্টির প্রমাণ।
 * অন্যান্য তথ্য: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এক ভিন্ন প্রসঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বৃদ্ধি, রপ্তানির গতিশীলতা এবং স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ৫ মাসের পরিচালনায় ৯০ শতাংশ সফলতার দাবি করেছিলেন। এই বক্তব্যগুলো জনগণের ব্যাপক সন্তুষ্টির ধারণাটিকে আরও জোরালো করে।
জনগণের সন্তুষ্টির মূল কারণ কী?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনগণের এই ইতিবাচক মনোভাবের পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
 * গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা: দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রতি মানুষের ব্যাপক আস্থা। প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
 * সংস্কারের প্রতি সমর্থন: অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে যে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি শুরু করেছে, জনগণ তাতে ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছে। বিশেষত, নির্বাচন কমিশন এবং শাসনব্যবস্থার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কারের প্রতি সমর্থন ৯০ শতাংশেরও বেশি।
 * আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা: গত কয়েক মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় মানুষ সন্তুষ্ট।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ
জনগণের ব্যাপক সমর্থন সত্ত্বেও, সরকারের সামনে কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান।
 * অর্থনৈতিক অস্থিরতা: মূল্যস্ফীতি এখনও উদ্বেগের অন্যতম কারণ। প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকায় সন্তুষ্ট নন।
 * নির্বাচন ও গণতন্ত্র: জনগণ দ্রুত নির্বাচন চাইলেও, বেশিরভাগ মানুষ (প্রায় ৬৫.৯%) চান যে নির্বাচনের আগে সরকার যেন "সমস্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার" সম্পন্ন করে।
তবে, সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন জরিপ ও জনমত এটাই স্পষ্ট করে যে, দেশের বিশাল একটি অংশ অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিতে আস্থাশীল। এই ব্যাপক জনসমর্থনই প্রমাণ করে যে, দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসনের পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে আপনার সন্তুষ্টির হার কত শতাংশ? আপনি কি মনে করেন সরকার ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবে?



শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন