শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫

জামায়াতকে ভোট দিলে আমার মৃতদেহ পাবেন': বিএনপি নেতা ও উপদেষ্টা ফজলুর রহমান


নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে উত্তাপ। বিভিন্ন দলের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করে চলেছেন। এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
তার সেই মন্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, "জামায়াতকে যদি ভোট দেন, তাইলে আমার মৃতদেহ পাবেন।" এই বক্তব্যটি তার সাম্প্রতিক একটি জনসভার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জের হাওর-অধ্যুষিত ইটনায় উপজেলা কৃষক দলের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন। সেখানে তিনি জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "১০ লাখ লোকের মিটিং করছে, এক শ কোটি টাকা খরচ করছে। বাপের বেটা হইলে ভোটে আয়, ভোট কর। ভোটের বেলায় গলা চিপা দেস কেন?"

তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, "আমিই প্রথম বলছি আওয়ামী লীগের আ-লিখতে আরও ১০ বছর লাগবে। এখনো এই কথা বলি। আমি যে পক্ষে বলি, সেটা হলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ। কারণ যখন আমি বুঝতে পারছি জামায়াতের চরিত্র ঠিক হইছে না। তারা বলে এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ হইছে না। আর ছাত্রশিবির বলে, যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করছিল, আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া লাগবে। তখন আমি আর সহ্য করতে পারি না।"
ফজলুর রহমানের এই ধরনের বক্তব্য এর আগেও আলোচনা তৈরি করেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আসছেন।

ফজলুর রহমান তার বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত তিনটি প্রধান বিষয় তুলে ধরতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে:
 * মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ: তিনি নিজেকে ও তার রাজনৈতিক অবস্থানকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ঐক্যের তীব্র বিরোধীতা করছেন।
 * ভোটের মাঠে আহ্বান: জামায়াতকে সভা-সমাবেশ না করে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। তার মতে, ক্ষমতার মসনদ দখলের ইচ্ছা থাকলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমেই তা প্রমাণ করা উচিত।
 * রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার: বিএনপির ভেতরে থাকা ভিন্নমত এবং জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে তার দলের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, জামায়াতের সঙ্গে তার কোনো আপস নেই।

বিএনপির এই প্রবীণ নেতার এমন কঠোর বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে তার সাহস এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রশংসা করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, চরমপন্থি বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইছেন। তবে এটি স্পষ্ট যে, তার এই মন্তব্য বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের পুরনো জটিলতা এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষের বিভাজনকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
আপনার কি ফজলুর রহমানের এই বক্তব্যের বিষয়ে অন্য কোনো নেতার মন্তব্য জানতে আগ্রহ আছে?


শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন