১১ নভেম্বর ২০২৫ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে কার্যক্রমে নি/ষি/দ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলী/গের (বিএসএল) নেতাকর্মীরা। আগামী ১৩ নভেম্বরের 'লকডাউন কর্মসূচি'কে সফল করার অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একাডেমিক স্থাপনাগুলোতে এমন ঘটনায় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষো/ভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, গভীর রাতে নি/ষি/দ্ধ ছাত্রলী/গের কর্মীরা চারটি ইনস্টিটিউট ও একটি অনুষদসহ মোট ৫টি স্থাপনার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তালা দেওয়া স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
চারুকলা অনুষদ
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর)
পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট
কার্জন হলের মূল ফটক
বিজ্ঞান ভবন
ফটকগুলোর শিকলে সাদা কাগজে 'লকডাউন বিএসএল' লিখে টানানো ছিল, যা এই কর্মসূচির উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করে।
এই তালা লাগানোর ঘটনার পর নি/ষি/দ্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলী/গের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তালাবদ্ধ স্থানগুলোর ছবি প্রকাশ করে লেখেন:
"১৩ তারিখ সারাদিন, লকডাউন সফল করুন। লকডাউন বিএসএল- চারুকলা অনুষদ, আইইআর, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, কার্জন হল গেট, বিজ্ঞান ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।"
এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজেই এই কাজের দায় স্বীকার করেছেন এবং তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন। যুবলী/গের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এইচ এম আল আমিন আহমেদও একই ছবি শেয়ার করে নি/ষি/দ্ধ সংগঠনের পক্ষে সমর্থন জানান।
🏛️ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ
ঘটনাটিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা সংকেত হিসেবে দেখছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।
বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ তালাগুলো খুলে ফেলে এবং পাঁচজন নিরাপত্তা প্রহরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে, যারা ফটকগুলোতে রাতের দায়িত্বে ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে।
অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য কাজ করা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন কার্যক্রমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অনেক শিক্ষার্থীই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
এদিকে, নি/ষি/দ্ধ ও বিতাড়িত ছাত্রলী/গের স/ন্ত্রা/সীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম জানিয়েছেন:
"নি/ষি/দ্ধ ও বিতাড়িত ছাত্রলী/গের স/ন্ত্রা/সীদের নির্মূল এবং ফ্যা/সিবাদী শক্তির মূলোৎপাটনে আজ ও আগামীকাল আমরা ডাকসু মাঠে থাকব। সকল শিক্ষার্থীকে দেশবি/রোধী আওয়ামী দু/র্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দলবেঁধে নামার আহ্বান জানাচ্ছি।"
তিনি আরও জানান, আজ (বুধবার) রাত ৮টায় ডাকসু ভবনের সামনে গণজমায়েত, রাত ৯টায় বিক্ষোভ মিছিল এবং পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার দিকে নজর রাখছে সকলে।


0 coment rios:
আপনার মতামত দিন