মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫

উদ্বোধনের আগেই ফাটল! আতঙ্ক গুঠাইল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে!

🚨 বালেরখবর.কম: উদ্বোধনের আগেই ফাটল! আতঙ্ক গুঠাইল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে!
জামালপুর: উদ্বোধন হলো না, অথচ এখনই দেয়ালে বড়সড় ফাটল! প্রায় পৌনে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জামালপুরের ইসলামপুর থানার অধীন গুঠাইল পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের নতুন চারতলা ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক।
জানা গেছে, যমুনা নদীর চরাঞ্চল এবং তীরবর্তী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের জুনে গুঠাইলে এই তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। ৬ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য মোট পৌনে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।

 * প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কাজ করে মেসার্স মাহবুব এন্টারপ্রাইজ (ব্যয় প্রায় ২ কোটি টাকা)।
 * তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কাজ করে মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্স (ব্যয় প্রায় দেড় কোটি টাকা)।
 * সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে মেসার্স নাঈমা এন্টারপ্রাইজ (ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা)।
২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ভবনটি পুলিশ বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। আর এই সময়ের মধ্যেই নতুন ভবনের দেয়ালে দেয়ালে প্রকট ফাটল দেখা দিয়েছে!
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে, সে জায়গাটি ছিল নিচু। মাটি ভরাট করা হলেও তা ঠিকমতো কমপ্যাক্ট করা হয়নি। মাটির নিচের বেইজ ঢালাইয়েও ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের রড এবং কম সিমেন্ট। এমনকি দেয়াল গাঁথুনিতে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইট। এলাকাবাসী কাজের সময় অভিযোগ করলেও গণপূর্তের প্রকৌশলীরা তা কর্ণপাত করেননি। উল্টো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আঁতাত করে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে ভবনে ১০ সদস্যের পুলিশের একটি দল অবস্থান করছে। সম্প্রতি ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটলে ফাটল আরও বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় পুলিশ সদস্যরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। তারা বলছেন, এই ভবনে দায়িত্ব পালন করা এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
🗣️ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে ভবন নির্মাণকারী সংস্থা গণপূর্ত বিভাগ অবশ্য কোনো কিছু জানেন না বলে দাবি করেছে।
অন্যদিকে, পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
নির্মাণের পরপরই এমন ফাটল দেখা দেওয়ায় জনগণ প্রশ্ন তুলেছেন, এত বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরেও কেন নিম্নমানের কাজ করা হলো? তবে শুধু নির্মাণকাজই নয়, এই তদন্ত কেন্দ্রের জমি দান নিয়েও আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। দান করা জমির দলিলটি ভুয়া দাবি করে নামজুল মিয়া নামের এক ব্যক্তি মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
সব মিলিয়ে, উদ্বোধনের আগেই ফাটল ধরায় এবং নির্মাণকাজে নিম্নমানের অভিযোগ ওঠায় গুঠাইল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভবন এখন জনগণের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, এটাই স্থানীয়দের একমাত্র দাবি।
বালেরখবর.কম: সবার আগে, সব খবর!



শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন