রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫

জামায়েতে ইসলামকে ভোট দিলেই মিলবে দুর্যোগের সুরক্ষা?



সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের পর একটি চাঞ্চল্যকর আলোচনায় উঠে এসেছে - 'জামায়েত কে ভোট দিলে মিলবে ভুমিকম্পে শুরুক্ষা'। এই দাবিটি সোশ্যাল মিডিয়া এবং কিছু প্রচার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। কিন্তু এই দাবির ভিত্তি কী এবং এর পেছনে কী রয়েছে সত্যতা?
প্রথমত, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার সাথে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যা পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালনের ফলে ঘটে। এটি সম্পূর্ণরূপে ভূ-তত্ত্বের বিষয়।
তবে, এই ধরনের শিরোনাম তৈরি হওয়ার কারণগুলি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ:
 * আকর্ষক শিরোনাম: যেকোনো দুর্যোগের পর মানুষ স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজে। 'ভোটের মাধ্যমে সুরক্ষা'—এমন একটি সরলীকৃত ও নাটকীয় দাবি দ্রুত মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
 * রাজনৈতিক কৌশল: দুর্যোগের সময় রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই জনগণের পাশে দাঁড়ানোর এবং ভবিষ্যতের জন্য তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরার চেষ্টা করে। এটি ভোটের আগে জনসমর্থন বাড়ানোর একটি কৌশল হতে পারে, যেখানে তারা দেখায় যে তাদের ক্ষমতায় আসা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
 * মনোরঞ্জন ও গুজব: অনেক সময় তথ্য-বিভ্রাট বা সাধারণ ভুল বোঝাবুঝির কারণেও এমন ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
🏛️ প্রকৃতপক্ষে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান কী?
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিবৃতি ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছেন, যা তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
দলটির আমিরের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল বিষয়গুলো হলো:
 * ক্ষতিপূরণের দাবি: ভূমিকম্পে নিহত ও আহতদের পরিবারকে দ্রুত জরুরি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
 * বিল্ডিং কোড অনুসরণ: বহুতল ভবন নির্মাণে যেন বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়, সে বিষয়ে তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
 * জনসচেতনতা বৃদ্ধি: ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনগণকে আরও সচেতন করার দায়িত্ব সরকারের বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
 * দুর্যোগ মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব: জামায়াত নেতারা বলেছেন যে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে জান ও মাল রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধার ব্যবস্থা করবেন এবং আপদকালীন সময়ে রাষ্ট্রকে জনগণের পাশে ছায়া হয়ে দাঁড়াতে হবে। তাদের মতে, জনগণ আল্লাহমুখী হলে আল্লাহই রক্ষা করবেন এবং তাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
তাই, 'ভোট দিলে ভূমিকম্পে সুরক্ষা মিলবে'—এই ধরনের সরাসরি কোনো ঘোষণা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। বরং তাদের বক্তব্য হচ্ছে, তারা ক্ষমতায় এলে দুর্যোগ মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রস্তুতিকে আরও উন্নত করবেন। তবে, দুর্যোগের পর জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করতে এই ধরনের আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
📰 বালেরখবর.কম-এর বিশ্লেষণ
রাজনীতির মাঠে এমন দাবি নতুন কিছু নয়। তবে নাগরিকদের মনে রাখতে হবে, যেকোনো দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রধান উপায় হলো বৈজ্ঞানিক সতর্কতা, ভূমিকম্প সহনশীল কাঠামো নির্মাণ, এবং জরুরি অবস্থার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি। কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় আসা বা না আসার ওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব নির্ভর করে না। ভোটের রাজনীতিতে এমন চমকপ্রদ শিরোনাম মানুষকে কেবল সাময়িক মনোরঞ্জন দিতে পারে, কিন্তু ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে বাঁচতে হলে দরকার সঠিক বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদী সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ।
ভূমিকম্পের প্রস্তুতি এবং ঝুঁকির বিষয়ে আপনি কি আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে চান?


শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন