দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি একাধিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৩ থেকে শুরু করে ৭.৭ পর্যন্ত। এই মারাত্মক কম্পনের জেরেই একাধিক স্থানে ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে এবং বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
💔 ধ্বংসের ছবি: মান্দালয়, নেপিদো ও সাগাইং
ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাগাইং, মান্দালয় ও রাজধানী নেপিদোর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো। সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মান্দালয়ে একটি বিশাল বহুতল ভবন ধসে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
* ধ্বংসস্তূপে চাপা: ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন মানুষ চাপা পড়েছেন, সেই সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। নির্মাণাধীন অট্টালিকা ধসেও বহু নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
* গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত: শুধু ভবন নয়, ইরাবতী নদীর ওপর নির্মিত ঔপনিবেশিক আমলের একটি সেতুও ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে। রাস্তাঘাটে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্পের পর পরই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছে। তবে গৃহযুদ্ধ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুর্বল অবকাঠামোর কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাণের সন্ধান পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।
* সংকট: তীব্র বৃষ্টিপাত, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট এবং আফটারশকের আতঙ্ক মানুষকে আরও বেশি ভোগান্তিতে ফেলেছে। হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।
* আন্তর্জাতিক সহায়তা: ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে এসেছে। রেড ক্রস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
মিয়ানমারে আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশগুলোতেও অনুভূত হয়েছে। থাইল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশ, চীন ও লাওসের বিভিন্ন অংশে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে তীব্র কম্পন অনুভূত হওয়ায় সেখানেও বহুতল ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বেশ কিছু মানুষ চাপা পড়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বালেরখবর.কম এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।
আপনি কি মিয়ানমারের ভূমিকম্প নিয়ে আরও কোনো বিশেষ তথ্য জানতে চান?

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন