নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে নতুন একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াত মূলত যুদ্ধের বিরোধী ছিল না, বরং তারা ভারতের ‘আধিপত্য’ এবং তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের হস্তক্ষেপের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। আমির হামজা তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের প্রচলিত পাঠের বাইরে গিয়ে দলের তৎকালীন অবস্থানের একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন।
মুফতি আমির হামজা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য ছিল অখণ্ড পাকিস্তান রক্ষা করা, কারণ তারা মনে করেছিল বিভাজন হলে এই অঞ্চলটি ভারতের প্রভাব বলয়ে চলে যাবে।
জামায়াত নেতারা সে সময় মনে করেছিলেন, ভারত পাকিস্তানকে ভেঙে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র করছে। তাই তারা দেশের অখণ্ডতা রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।
আমির হামজা দাবি করেন, জামায়াতের বিরোধিতা ছিল একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের (ভারত) নীতির বিরুদ্ধে, সরাসরি স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে নয়।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের অনেক তথ্যকে একপাক্ষিক ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জামায়াত কেন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারেও দলটির তৎকালীন শীর্ষ নেতাদের দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে বর্তমান সময়ে জামায়াতের অনুসারী এবং আমির হামজার মতো বক্তারা দলটির সেই বিতর্কিত ভূমিকাকে 'ভারত-বিদ্বেষ' বা 'দেশপ্রেমের ভিন্ন রূপ' হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত তরুণ প্রজন্মের কাছে দলের ভাবমূর্তি উন্নয়নের একটি কৌশল।
জামায়াত যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তারা ভারতের আগ্রাসনের ভয়ে দেশের ঐক্য ধরে রাখতে চেয়েছিল।" — মুফতি আমির হামজা

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন