বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সম্প্রতি এক ঘরোয়া আলোচনা সভায় বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে দুই ভিন্ন সময়ের সংঘাত ও প্রাপ্তির পার্থক্য।
মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহের কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যতটা সহজ হয়েছে, একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে:
২০২৪ সালে মুহূর্তের মধ্যে খবর পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলেও, একাত্তরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য পাঠাতে হতো।
বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে ধরনের নজরদারি বা সমর্থন পাওয়া যায়, যুদ্ধের শুরুতে সেই সুযোগগুলো অনেক সীমিত ছিল।
বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিকরা অনেক ক্ষেত্রে যে ধরনের নাগরিক সুবিধা ভোগ করছেন, একাত্তরের রণাঙ্গনে বা লুকিয়ে থাকার দিনগুলোতে সেসব ছিল কল্পনাতীত।
"আমরা চব্বিশে যে ধরনের প্রযুক্তিগত এবং কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছি, একাত্তরের অবরুদ্ধ সময়ে তার ছিটেফোঁটাও আমাদের কাছে ছিল না। তখন লড়াইটা ছিল কেবল অদম্য সাহস আর ত্যাগের।"
মির্জা আব্বাসের এই তুলনাকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি মূলত তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময় সম্পর্কে সচেতন করার একটি প্রচেষ্টা। তবে সমালোচকদের মতে, বর্তমানের রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধের তুলনা করাটা সবসময় প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বক্তব্য নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, মির্জা আব্বাস সম্ভবত বর্তমান সময়ের 'ডিজিটাল অ্যাক্টিভিজম' এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধাকেই ইঙ্গিত করেছেন, যা একাত্তরে ছিল সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
মির্জা আব্বাসের এই মন্তব্য মূলত দুই প্রজন্মের লড়াইয়ের মধ্যকার ব্যবধানকে স্পষ্ট করেছে। তার মতে, বর্তমানের সুযোগ-সুবিধা আন্দোলনকে বেগবান করলেও একাত্তরের সেই নিঃস্বার্থ ত্যাগই ছিল দেশ গঠনের মূল ভিত্তি।
আপনি কি এই খবরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আরও বিস্তারিত কোনো তথ্য জানতে চান? আমি আপনাকে সংশ্লিষ্ট মিডিয়া রিপোর্টগুলো খুঁজে দিতে পারি।

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন