নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬
রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে একটি বিশেষ খবর ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই খবরটি সাধারণ গ্রাহক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি আসলে কী এবং বর্তমান বাস্তবতা কী বলছে, তা নিয়ে আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার কোনো সরকারি ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত আসেনি। তবে সিলিন্ডার রিফিল, লাইসেন্সবিহীন দোকানে অবৈধ মজুদ এবং নিরাপত্তার খাতিরে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছু কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করছে। অনেক সময় এই কঠোর তদারকিকেই সাধারণ মানুষ বা অসাধু চক্র "বিক্রি বন্ধ" হিসেবে প্রচার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
যত্রতত্র নিয়ম না মেনে এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়া সিলিন্ডার বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। অনুমোদনহীন দোকানে গ্যাস বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক কোম্পানি তাদের পুরনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে। এটি সাময়িক সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ডাটাবেজ তৈরি করে নির্দিষ্ট ডিলারের মাধ্যমে সিলিন্ডার বিতরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে যাতে কালোবাজারি রোধ করা যায়। সবসময় অনুমোদিত এবং লাইসেন্সধারী ডিলারের কাছ থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করুন। গ্যাস নেওয়ার সময় সিলিন্ডারের মুখের প্লাস্টিক সিল অক্ষত আছে কিনা তা যাচাই করে নিন।
জ্বালানি সংকটের ভয় দেখিয়ে অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকারি রেট চার্ট দেখে দাম পরিশোধ করুন।
বর্তমানে বাংলাদেশে এলপিজি একটি অপরিহার্য জ্বালানি। পাইপলাইনের গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কারণে এলপিজির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই সরকার এটি বন্ধ নয়, বরং আরও সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ করার চেষ্টা করছে। সুতরাং, "সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ হচ্ছে"—এমন খবরে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক তথ্য যাচাই করার অনুরোধ রইল।
বালেরখবর.কম-এর সাথেই থাকুন সব সময়কার সর্বশেষ খবরের আপডেটে।

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন