ঢাকা, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন নির্বাচনের হাওয়া গরম, ঠিক তখনই চরম হুঁশিয়ারি দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন, কোনো বিশেষ দলের জন্য যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়া এক মুহূর্তের জন্যেও থেমে না যায়!
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-এর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তরুণ এই নেতা যে বার্তা দিলেন, তা দেশের রাজনীতিতে নতুন করে ঢেউ তুলেছে।
বিশেষ দল কি নির্বাচন প্রক্রিয়া থামাবে?
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নাহিদ ইসলামের এই কড়া মন্তব্যটি বিশেষ করে সেই রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দিকে ইঙ্গিত করছে, যারা সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে টালবাহানা করছে অথবা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিজেদের শর্তের জাঁতাকলে ফেলে দিতে চাইছে। দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণ-অভ্যুত্থানের পর, দ্রুত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করা এখন সময়ের দাবি।
এনসিপি আহ্বায়ক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন, নির্বাচন হলো একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। কোনো একক বা পুরোনো প্রভাবশালী দলের সুবিধা-অসুবিধার ওপর এই মহাগুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া নির্ভর করতে পারে না। তিনি ইসির প্রতি আহ্বান জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী সূচি ঘোষণা করা হোক।
"আমরা চাই, নির্বাচন তার নিজস্ব গতিতে চলুক। আইন সকল দলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। এখানে কারো জন্য বিশেষ খাতির দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।" — নাহিদ ইসলাম।
কালো টাকা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে চরম উদ্বেগ!
নাহিদ ইসলাম শুধু নির্বাচন চালিয়ে যাওয়ার কথাই বলেননি, বরং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে প্রধান বাধাগুলোও চিহ্নিত করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, কালো টাকার দৌরাত্ম্য এবং নির্বাচনী প্রচারে সীমাতিরিক্ত ব্যয় দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেবে।
তিনি ইসির কাছে জোরালো দাবি জানান, টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধে এখনই কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একইসাথে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বদলি ও কার্যকলাপের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলে জনগণ নির্বাচনের ওপর আস্থা হারাবে।
নির্বাচন নিয়ে আপস বা আসন-সমঝোতার কোনো প্রশ্নই নেই, এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০০টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা ক্ষমতা বা আসনের জন্য কারো সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করবে না। তাদের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের কাছে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, সংস্কারের রোডম্যাপ এবং 'দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র' প্রতিষ্ঠার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য পরিষ্কার করে দেয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের এই দলটি এখন নির্বাচনী দৌড়ে পুরোদমে নেমে পড়েছে এবং কোনো পুরোনো শক্তির শর্তে তারা মাথা নোয়াতে প্রস্তুত নয়। দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা ছিল, এই কড়া বার্তা তাতে নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করল।
পাঠক, আপনি কি মনে করেন কোনো বিশেষ দলের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেমে যাওয়া উচিত? আপনার মূল্যবান মতামত দিন!

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন