বালেরখবর.কম ডেস্ক | প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
ডিসেম্বর মাস, প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন দেদারসে। অথচ বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও সত্য যে, দেশের এমন ১০টি ব্যাংক আছে যারা গত ১৩ দিনে এক ডলারও রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আনতে পারেনি! যেখানে অন্য ব্যাংকগুলোতে ডলারের স্রোত বইছে, সেখানে এই ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিটে রেমিট্যান্সের ঘর একেবারে ধুধু মরুভূমি।
চলুন জেনে নিই, কেন এমন হলো এবং কারা রয়েছে এই তালিকায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশ ইতিবাচক। কিন্তু এই ইতিবাচক স্রোতের মধ্যেও ১০টি ব্যাংক কোনো রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ, এই ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কোনো প্রবাসী তাদের স্বজনদের কাছে টাকা পাঠাননি।
বিষয়টি বেশ হাস্যকর মনে হতে পারে যে, ব্যাংক খুলে বসে আছে, কিন্তু ডলার আসছে না! তবে ব্যাংকিং খাতে এটি নতুন কিছু নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত কিছু বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বিদেশি খাতের বেশ কিছু ব্যাংক প্রায়ই এই তালিকার সদস্য হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে সাধারণত যে ব্যাংকগুলো প্রায়ই এই "শূন্য রেমিট্যান্স" ক্লাবের সদস্য হয়, তাদের মধ্যে রয়েছে:
১. রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক: বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। এদের অবকাঠামো মূলত কৃষি বা শিল্পকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রবাসীদের সাথে এদের সংযোগ কম।
২. বিদেশি ব্যাংক: হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, উরি ব্যাংক এবং ব্যাংক আল-ফালাহ। এই ব্যাংকগুলো মূলত করপোরেট ডিল ও নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালায়, সাধারণ প্রবাসীদের অ্যাকাউন্ট এখানে খুব একটা থাকে না।
৩. বেসরকারি ব্যাংক: আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ এবং সিটিজেন্স ব্যাংক। আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই ধুঁকছে, আর বাকিরা নতুন বা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ।
বালেরখবর.কম-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এর পেছনের কিছু কারণ:
প্রবাসীরা সাধারণত সেই ব্যাংকই বেছে নেন যাদের শাখা বা এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে (যেমন- ইসলামী ব্যাংক বা ডাচ-বাংলা)। এই ১০টি ব্যাংকের সেই সুবিধা নেই।
কিছু ব্যাংকের (যেমন আইসিবি ইসলামিক) ওপর গ্রাহকদের আস্থার অভাব রয়েছে।
বিদেশি ব্যাংকগুলো মূলত বড় ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, খুচরা রেমিট্যান্স বা রেমিট্যান্স হাউজগুলোর সাথে তাদের চুক্তি খুব একটা থাকে না।
এই ১০টি ব্যাংক ব্যর্থ হলেও, পুরো দেশের চিত্র কিন্তু খারাপ নয়। চলতি ডিসেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বরাবরের মতোই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মাধ্যমে। এরপরই রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক।
ডলার সংকটের এই বাজারে এক ডলারও অনেক মূল্যবান। সেখানে ১০টি ব্যাংকের এমন পারফরম্যান্স সত্যিই হতাশাজনক। তবে পাঠকদের চিন্তার কিছু নেই, মূলধারার ব্যাংকগুলোতে রেমিট্যান্সের চাকা সচলই আছে!
আপনার কি মনে হয়? এই ব্যাংকগুলোর কি রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য বিশেষ অফার দেওয়া উচিত? নাকি এদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা উচিত?
আমি কি এখন আপনাকে আজকের ডলারের বা টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার (Exchange Rate) সম্পর্কে জানাবো?

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন