বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সম্প্রতি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে 'যুদ্ধ ঘোষণা' করবে। এই মন্তব্যটি তাৎক্ষণিকভাবে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রিজভীর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশজুড়ে বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতির যে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে, তা থেকে দেশকে মুক্ত করাই হবে তাদের প্রধান এজেন্ডা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন: অনেকে মনে করেন, এই ঘোষণা বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে জনমতকে আরও সংহত করার একটি কৌশলী পদক্ষেপ। তবে, অনেকেই আবার প্রশ্ন তুলছেন, অতীতে বিএনপি সরকারের আমলেও তো দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তাহলে তাদের এই 'যুদ্ধ ঘোষণা' কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা: সাধারণ মানুষ অবশ্য চায়, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা যেন সত্যিকার অর্থে দুর্নীতিকে নির্মূল করার জন্য জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে। রিজভীর এই বক্তব্যে তারা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন, যদিও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহও রয়েছে।
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মেগা প্রজেক্টে দুর্নীতি, ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে আসছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ধরনের বহু অভিযোগ প্রতিনিয়ত উঠে আসছে।
প্রতিশ্রুতি এবং চ্যালেঞ্জ: যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে - দলীয় কর্মীদের দুর্নীতি থেকেও দেশকে রক্ষা করা। রিজভীর এই ঘোষণার বাস্তবায়ন শুরু হলে, তা দেশের দুর্নীতিবিরোধী ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় হতে পারে। অন্যদিকে, যদি এটি শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবেই থেকে যায়, তবে দলটির ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ন হতে পারে।
রুহুল কবির রিজভীর এই 'যুদ্ধ ঘোষণা'কে আপনি কীভাবে দেখছেন? এটি কি কেবলই রাজনৈতিক বক্তব্য, নাকি সত্যিই দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিবর্তনের ইঙ্গিত?

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন