ঢাকা: দেশের ভোজনরসিক সমাজে এখন নতুন এক ট্রেন্ড! যারা আগে একা এক প্লেট খাবার সাবাড় করতেন, এখন নাকি তারা নিজেদের মধ্যে প্লেট ভাগ করে নিচ্ছেন। কিন্তু চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই কৃচ্ছ্রসাধনের মাঝেও তরকারির ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই। পাতিল ভরা তরকারি ঠিকই উধাও হচ্ছে! সম্প্রতি দেশের আলোচিত ব্যক্তিত্ব নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-র এমন মন্তব্য নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
গত ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দেওয়া এক বক্তব্যে পাটোয়ারী বলেন, "আগে তারা এক প্লেটে খাইতো; এখন প্লেট ভাগ, কিন্তু এক পাতিলে তরকারি।" তার এই মন্তব্য মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ওঠে।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর এই মন্তব্যটি আপাতদৃষ্টিতে হাস্যকর মনে হলেও, এর পেছনে একাধিক কারণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক চাপ: অনেকেই মনে করছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে খাবারের ক্ষেত্রে কিছুটা সাশ্রয়ী হচ্ছেন ভোজনপ্রেমীরা। প্লেট ভাগ করে খাবার খাওয়াটা সেই সাশ্রয়েরই ইঙ্গিত। কিন্তু, যেহেতু বাঙালির প্রধান আকর্ষণ হলো মাংস-মাছ-সবজি, তাই তরকারির পরিমাণ কমাতে কেউ রাজি নন। পাতিল ভর্তি তরকারি যেন অর্থনৈতিক চাপ ভুলে থাকার এক 'স্বাদ-বিলাস'!
সামাজিকীকরণ ও নতুন ট্রেন্ড: এখনকার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে 'শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং' নামে একটা ধারণা প্রচলিত। হয়তো প্লেট ভাগ করে খাওয়াটা সেই ট্রেন্ডেরই অংশ। কিন্তু তরকারি কম থাকলে সেই শেয়ারিং-এর আনন্দ মাটি! তাই তরকারির ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য নেই। এক পাতিলে তরকারি যেন সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখার প্রতীক!
স্বাস্থ্য সচেতনতা বনাম স্বাদের লোভ: কেউ কেউ মনে করছেন, স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে প্লেটে কম খাবার নিচ্ছেন। ভাত বা রুটির পরিমাণ কমিয়েছেন। কিন্তু সুস্বাদু তরকারি বা ঝোল তো আর ছাড়া যায় না! তাই এক পাতিল তরকারি সাবাড় হচ্ছে দিব্যি। এটা যেন স্বাস্থ্য আর স্বাদের মধ্যে এক 'মিষ্টি আপস'।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর এই মন্তব্য নিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে শুরু হয়েছে মজার মজার আলোচনা ও ট্রল। অনেকে নিজেদের ছবি দিয়ে বলছেন, "ভাই ঠিক বলেছেন, আমি তো এখন প্লেট ভাগ করি, কিন্তু আমার তরকারির পাতিল পুরোটা চাই!" আবার কেউ কেউ পাটোয়ারীকে 'ভোজন বিশারদ' উপাধিও দিচ্ছেন।
ইউটিউবের এক জনপ্রিয় ফুড ভ্লগার এই বিষয়টি নিয়ে ভিডিও তৈরি করে দেখিয়েছেন, কীভাবে চারজন বন্ধু মিলে একটি প্লেটে খাচ্ছেন, কিন্তু তরকারির জন্য রীতিমতো লড়াই করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাটোয়ারীর এই মন্তব্য কেবল খাবারের বিষয়ে নয়। এর মাধ্যমে তিনি সমাজের একটি বিশেষ শ্রেণির 'দেখানো' আর 'ভেতরের' চিত্র তুলে ধরেছেন। বাহ্যিকভাবে হয়তো তারা সাশ্রয়ী বা সংযমী হওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু মৌলিক ভোগ বা বিলাসের জায়গা থেকে তারা সরে আসেননি। প্লেট ভাগ করাটা হয়তো লোক দেখানো, কিন্তু ভেতরের ক্ষুধা বা আকাঙ্ক্ষা এক পাতিল তরকারির মতোই অদম্য।
এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও তথ্যের জন্য আমাদের চোখ থাকবে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর পরবর্তী বক্তব্যের দিকে।

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন