শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক (!) পরিবর্তনের সাক্ষী হলো কুমিল্লা। পরীক্ষার হলে সাধারণত শিক্ষার্থীরা কলম আর মগজ ব্যবহার করলেও, কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের দেখা গেল সরাসরি বই খুলে উত্তর লিখতে। মুখস্থ বিদ্যার তোয়াক্কা না করে একদম ‘ওপেন বুক এক্সাম’ স্টাইলে পরীক্ষা দেওয়ার হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক (অনার্স) পরীক্ষায় কুমিল্লার একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন স্থিরচিত্র ও ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীরা কোনো লুকোছাপা ছাড়াই টেবিলের ওপর মূল বই এবং গাইড খুলে মনের সুখে উত্তরপত্র ভরাট করছেন। সেখানে দায়িত্বরত পরিদর্শকদের ভূমিকা ছিল অনেকটা ‘দর্শকের’ মতো।
"এতদিন জানতাম পরীক্ষা মানে পরীক্ষা, এখন দেখছি এটা মূলত 'দেখে দেখে সুন্দর করে হাতের লেখা প্রতিযোগিতা'।"
"ডিজিটাল বাংলাদেশে এনালগ পদ্ধতিতে বই দেখে লেখা—এটাই তো আসল স্মার্টনেস!"
এই যদি হয় উচ্চশিক্ষার নমুনা, তবে সার্টিফিকেট দিয়ে ভবিষ্যতে তারা কী করবেন?
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও বাস্তবতা
যদিও স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন, তবে ইন্টারনেটে পাওয়া বিভিন্ন সোর্স বলছে, কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকা এবং স্থানীয় প্রভাবে শিক্ষার্থীরা এই দুঃসাহস দেখিয়েছেন। অনেকে দাবি করছেন, এটি কোনো স্যাটায়ার নয়, বরং আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার এক করুণ ও হাস্যকর প্রতিফলন।
বালেরখবর.কম-এর পর্যবেক্ষণ
শিক্ষা মানে যেখানে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করা, সেখানে বই দেখে কপি করাটা হাস্যকর হলেও বর্তমান সময়ে এটি একটি ভয়ের কারণ। মেধার লড়াই যখন গাইড বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তখন সেই সার্টিফিকেট দিয়ে চানাচুর খাওয়ার যোগ্য হওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
কুমিল্লার এই ঘটনা কেবল একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের অনিয়ম নয়, বরং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক স্খলনের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। শিক্ষার্থীরা কি তবে সত্যিই ‘গবেষক’ হয়ে উঠছেন, নাকি মগজ ছাড়াই ডিগ্রি অর্জনের নেশায় মত্ত? প্রশ্নটি সমাজের কাছেই তোলা রইল।
আপনি কি এই ঘটনার পেছনের আরও চাঞ্চল্যকর কোনো তথ্য বা মন্তব্য যোগ করতে চান? জানালে আমি নিউজটি আরও বিস্তারিত করতে পারি।

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন