নিজস্ব প্রতিবেদক | বালেরখবর.কম
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ যখনই কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তখনই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তথাকথিত রাজনৈতিক ছায়া। সম্প্রতি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে রাজনীতির পেছনের এক তেতো সত্য—যেখানে দিনের আলোর আদর্শিক বক্তৃতা রাতের অন্ধকারে তদবিরের চাপে ধুলোয় মিশে যায়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ সোজাসাপ্টা ভাষায় বর্তমান পরিস্থিতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ বা তদবির আসে। মজার বিষয় হলো, যে নেতারা প্রকাশ্যে অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে মঞ্চ কাঁপানো ভাষণ দেন, তাঁরাই আবার রাতে পর্দার আড়ালে সেইসব অপরাধীদের ‘নির্দোষ’ দাবি করে থানা বা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে তদবির করেন।
ডিআইজির এই সাহসী উচ্চারণ দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক নগ্ন রূপ প্রকাশ করেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধ দমন করা পুলিশের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
তদবির সংস্কৃতির কবলে আইনশৃঙ্খলা
পুলিশ প্রশাসনের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা কিংবা স্থানীয় চাঁদাবাজ—যাকেই পুলিশ আটক করুক না কেন, মুহূর্তের মধ্যেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফোন আসতে শুরু করে।
নেতারা জনসমক্ষে পুলিশের প্রশংসা করলেও ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের 'ক্যাডার' বা 'কর্মী'দের বাঁচাতে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান।
পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে গিয়ে অনেক সৎ পুলিশ কর্মকর্তা এসব তদবিরের কারণে বিপাকে পড়েন। তদবির না শুনলে বদলি বা বিভাগীয় শাস্তির ভয় দেখানোর ঘটনাও নতুন নয়।
অপরাধীরা যখন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ছাড়া পেয়ে যায়, তখন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ আইনি ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে।

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন