শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫

স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধের অনুমোদন দিলো অস্ট্রিয়া পার্লামেন্ট!

বালেরখবর.কম
ভিয়েনা, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫: ইউরোপের রক্ষণশীল এবং ঐতিহাসিকভাবে ক্যাথলিক প্রধান দেশ অস্ট্রিয়াতে এবার স্কুল শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে তৈরি হলো নতুন বিতর্ক। দেশটির পার্লামেন্ট সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার একটি বিতর্কিত বিলে অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে বহু মহল থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বৈষম্যের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যদিও সরকারের দাবি এটি "রাজনৈতিক ইসলাম"-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ।

অস্ট্রিয়ান পার্লামেন্টে পাস হওয়া এই নতুন আইন অনুযায়ী, ১০ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুখ ঢাকা পোশাক, যেমন হিজাব পরিধান করতে পারবে না। আইনটির প্রস্তাবকরা মূলত "মাথার আচ্ছাদন" কথাটি ব্যবহার করলেও, সরকারের মুখপাত্ররা স্পষ্ট করেছেন, এর প্রধান লক্ষ্য মুসলিম মেয়েদের পরিধান করা মাথা ঢাকার পোশাক (হিজাব)।
  সরকার, বিশেষ করে চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জের রক্ষণশীল দল এবং তাদের জোট সঙ্গী ফ্রিডম পার্টির বক্তব্য—এই বিলটি মুসলিম মেয়েদের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সমাজে তাদের দ্রুত একীভূতকরণে সাহায্য করবে। তারা মনে করে, অল্প বয়সে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা এক ধরনের চাপ, যা থেকে মেয়েদের মুক্তি দেওয়া দরকার।
  অস্ট্রিয়ার মুসলিম কমিউনিটি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, এটি সরাসরি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। তারা জোর দিয়ে বলেছে, এই আইন কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতীককে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং এটি শিশুদের শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
  বিলটি পাস হলেও, এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে। বিরোধীরা আশা করছেন, অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে বাতিল করে দেবে।
 

 ২০১৯ সালের মে মাসে অস্ট্রিয়ার পার্লামেন্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধের একটি বিল পাস করেছিল। সেই সময় আইনটি তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
 সাংবিধানিক আদালতের রায়: তবে এই নিষেধাজ্ঞা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত এই আইনটিকে বৈষম্যমূলক এবং ধর্মীয় নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, আইনটি বিশেষভাবে একটি ধর্মীয় প্রতীককে লক্ষ্য করেছে, যা সংবিধান পরিপন্থী।
সাম্প্রতিক ফটোকার্ডটি হয়তো সেই পুরোনো বিতর্কিত ঘটনার উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে, তবে এটি আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে ইউরোপের বহু দেশে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে চলতে থাকা টানাপোড়েনকে।

অস্ট্রিয়াই একমাত্র দেশ নয় যেখানে হিজাব বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সরকারি কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে:
  ফ্রান্স তার কঠোর ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতি (laïcité) অনুসারে ২০০৪ সাল থেকে স্কুলে সব ধরনের সুস্পষ্ট ধর্মীয় প্রতীক (যেমন হিজাব, বড় ক্রুশ বা কিপ্পা) নিষিদ্ধ করেছে।
 জার্মানির কিছু রাজ্যে শিক্ষিকাদের হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, ছাত্রীদের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো কেন্দ্রীয় নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এ নিয়েও বিভিন্ন রাজ্যে বিতর্ক বিদ্যমান।
অস্ট্রিয়া পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্ত, যদিও এটি সাংবিধানিক আদালতের পুরনো বাতিল আদেশের পুনরাবৃত্তি হতে পারে, তবুও এটি স্পষ্ট করে দেয় যে ইউরোপে মুসলিম অভিবাসী এবং তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি সমাজের মূল স্রোতে একীভূত করার চেষ্টা এখনও এক বিরাট রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ।
পাঠকদের প্রতি প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করা উচিত, নাকি এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী? বিস্তারিত মন্তব্যে জানাতে পারেন!
বালেরখবর.কম: আপনার বিনোদনে, আমাদের খবর!


শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন