শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫

রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যায় প্রধান আসামি মোরসালিন গ্রেফতার, টাকার লোভে নৃশংস খুন!

রংপুর ব্যুরো
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ঘটে যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র বর্মণ (৭০) ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রানীকে (৬২) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন প্রধান আসামি মোরসালিন। পেশায় টাইলস মিস্ত্রি মোরসালিনকে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) গভীর রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর খিয়ারের জুম্মা গ্রামের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
টাকা না পেয়েই খুন!
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেফতারকৃত মোরসালিন (২২), যিনি তারাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং পেশায় রাজমিস্ত্রীর সহযোগী, জানিয়েছেন মাত্র ৮ হাজার টাকা ঋণের বোঝা শোধ করার জন্যই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
  কয়েকদিন আগে মোরসালিন নিহত মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্রের বাড়িতে টাইলস লাগানোর কাজ করেছিলেন। সেই সময় বাড়িতে প্রচুর টাকা-পয়সা আছে এমন ধারণা থেকেই তাঁর মনে লোভ জাগে এবং তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।
  গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তিনি প্রথমে সুবর্ণা রানীকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে ঘরে থাকা মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র বর্মণকেও একই কায়দায় নৃশংসভাবে হত্যা করেন।
  হত্যাকাণ্ডের পর আলমারির তালা ভেঙে টাকা-পয়সা লুটের চেষ্টা চালান। কিন্তু আলমারিতে কোনো টাকা না পেয়ে খালি হাতেই তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
 গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মোরসালিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন নেছার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।
স্যান্ডেলের সূত্র ধরে গ্রেফতার
পুলিশের তদন্ত দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি স্যান্ডেলের সূত্র ধরে মোরসালিনকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। এই সূত্র ধরেই তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর খিয়ারের জুম্মা গ্রামে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অস্ত্র উদ্ধার
গ্রেফতারের পর আসামির দেখানো মতে একটি খাল থেকে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়াল ও ছোরা উদ্ধার করেছে। এই অভিযানে রংপুর পুলিশ সুপার তদারকি করেন।
৬ ডিসেম্বর রাতে এই মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির ছেলে শোভন চন্দ্র রায় তারাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ প্রশংসনীয় কাজ করেছে।
রংপুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে আপনার আর কোনো তথ্য জানার আছে কি?


শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন