শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

চাঁদার সাম্রাজ্যে রোষের আগুন! বাসস্ট্যান্ডে হাঙ্গামার পর বিএনপির ২ নেতা আটক


চট্টগ্রাম: প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগে ফের শিরোনামে উঠে এলেন বিএনপি রাজনৈতিক দলের নেতারা। এইবার নিশানায় দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির দুই নেতা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বাসস্ট্যান্ডে হাঙ্গামা ও ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে, স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দুই নেতাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহরের একটি জনবহুল বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন খাতে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি চলছিল। এই চাঁদাবাজির প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বিএনপি নেতা মামুন আলী ওরফে ‘কিং আলী’ এবং তার সহযোগী লোকমান আলী-র বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কিং আলীর নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এন মোহাম্মদ ট্রেডিং নামের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তারা কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং মারধর শুরু করে। এই তাণ্ডবে প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরা, বিভিন্ন যানবাহন, এক্সকাভেটর, ট্রাক ও পানির পাম্পসহ প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পত্তির ক্ষতি হয়।

 নগদ ৩০ লাখ টাকা লুট ও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ভাঙচুরের পর কিং আলী জোরপূর্বক অফিসের কক্ষে প্রবেশ করে নগদ ৩০ লাখ টাকা লুট করে নেয়। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখতে হলে আরও এক কোটি টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর তারা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার মালামাল ট্রাক ভরে লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পুরো ঘটনায় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পাহাড়তলী থানায় কিং আলী ও লোকমান আলীর বিরুদ্ধে দখলচেষ্টা, মালামাল লুট, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। বৃহস্পতিবার রাতেই বিএনপি নেতা মামুন আলী ওরফে 'কিং আলী'কে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
দলীয় অবস্থান ও অন্যান্য স্থানেও একই চিত্র
এ বিষয়ে নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মামুন আলী বর্তমানে দলের কোনো পদে নেই। তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "দলের নাম ভাঙিয়ে লুটপাট, চাঁদাবাজি কেউ করতে পারবে না। তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।"
তবে শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাদের চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে:
 * লক্ষ্মীপুর: রায়পুর অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
 * নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জে তেলের ডিপোতে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দুই বিএনপি নেতাকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
 * নেত্রকোনা: কেন্দুয়া নতুন বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি ও শ্রমিক দলের দুই নেতাকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসব ঘটনা থেকে এটাই স্পষ্ট যে, কিছু সংখ্যক নেতার অসাধু কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উচিত এমন অপতৎপরতা বন্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

আপনার এলাকায় এমন কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা দেখলে, আপনি কি সেটা গণমাধ্যমের নজরে আনতে চান?


শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন