মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫

বিএনপি-এনসিপি'র ঐক্য প্রয়োজন, তবে শর্ত হলো: 'পরিবারতন্ত্র' থেকে মুক্তি!

বিশেষ প্রতিনিধি: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (এনসিপি)-এর সম্ভাব্য ঐক্য নিয়ে গুঞ্জন। তবে এই ঐক্যের পথ কণ্টকাকীর্ণ, কারণ একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তরুণ নেতা মনে করেন, এই জোটের সাফল্যের জন্য বিএনপিকে অবশ্যই তাদের দীর্ঘদিনের 'পরিবারতন্ত্র'র বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য অপরিহার্য। এনসিপি, যদিও জাতীয় পর্যায়ে তাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম, তবুও তারা তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের একটি অংশকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। অন্যদিকে, বিএনপি একটি বিশাল জনসমর্থন সম্পন্ন প্রধান বিরোধী দল হলেও, এককভাবে তারা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে, একটি বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে বিএনপি-এনসিপি'র জোট হতে পারে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

 'পরিবারতন্ত্র' কাঁটা: ঐক্যের প্রধান বাধা
আলোচনা ও বিশ্লেষণ থেকে উঠে এসেছে যে, এই জোট গঠনের প্রধান শর্ত বা বাধা হলো বিএনপি'র পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি। তরুণ প্রজন্মের নেতারা মনে করেন, দলটির শীর্ষ পদগুলোতে বছরের পর বছর ধরে একই পরিবারের সদস্যদের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে দলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে, সাধারণ কর্মী ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হচ্ছে হতাশা এবং আস্থার সংকট।
 বিশ্লেষকদের অভিমত: রাজনীতি বিশ্লেষক ড. কামাল আহমেদ (ছদ্মনাম) মন্তব্য করেন, "বিএনপি যদি সত্যিই কোনো বৃহত্তর জোটে নেতৃত্ব দিতে চায়, তবে তাদের দেখাতে হবে যে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী। দলের চেয়ারপার্সন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হবে, শুধু পারিবারিক পরিচয়ে নয়।"

 তরুণ নেতৃত্বের দাবি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপি'র এক তরুণ নেতা বলেন, "ঐক্য আমাদেরও কাম্য। কিন্তু এমন একটি দলের সঙ্গে আমরা জোট করব, যারা কেবল একটি পরিবারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত, এটা মেনে নেওয়া কঠিন। বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা কেবল একটি পরিবারের সম্পত্তি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করছে।"

ঐক্যের রোডম্যাপ: কী করতে হবে বিএনপিকে?
যদি বিএনপি এই গুরুত্বপূর্ণ জোট গঠন করতে চায় এবং দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়, তবে তাদের নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দিতে হবে:
 * সাংগঠনিক শুদ্ধি অভিযান: দলের অভ্যন্তরে পরিবারকেন্দ্রিক প্রভাব কমিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
 * নতুন নেতৃত্বের সুযোগ: তৃণমূল থেকে উঠে আসা এবং মেধা-নির্ভর তরুণ নেতাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে তাদের সক্রিয় করা।
 * গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া: দলের সকল সিদ্ধান্তে বৃহত্তর আলোচনা এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করা, যাতে জোটের অন্য দলগুলো আস্থাশীল হয়।
সার্বিক বিশ্লেষণে বলা যায়, বিএনপি-এনসিপি'র ঐক্য সময়ের দাবি হলেও, এই ঐক্য তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন বিএনপি তাদের দলীয় কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে 'পরিবারতন্ত্র'-এর অভিযোগ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারবে। জাতীয় রাজনীতিতে এই পদক্ষেপ একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।



শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন