ঢাকা, ১৪ নভেম্বর ২০২৫: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যে নতুন মুখটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি জল্পনা চলছে, তিনি হলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম প্রধান সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে আসা এই তরুণ নেতা তার কঠোর অবস্থান, স্পষ্টবাদী বক্তব্য এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হিসেবে তার ভূমিকার কারণে দ্রুতই আলোচনায় এসেছেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, ফেসবুক এবং ইউটিউবের রাজনৈতিক টক-শোতে হাসনাত আব্দুল্লাহকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা এনসিপির পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত খবর নয়। বরং এটি তার সাম্প্রতিক জনসমর্থন এবং দলের মধ্যে তার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে তৈরি হওয়া জল্পনা।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ মূলত পরিচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে। এই আন্দোলনই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের জন্ম দেয়। তার প্রধানমন্ত্রিত্বের আলোচনা ওঠার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:
* বিপ্লবী পটভূমি: তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল (এনসিপি) প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। এই পটভূমি তাকে জনগণের কাছে "পরিবর্তনের প্রতীক" হিসেবে তুলে ধরেছে।
* শক্ত অবস্থান: তিনি বিভিন্ন জনসভায় স্পষ্ট ভাষায় দুর্নীতি, নির্বাচন কারচুপি এবং 'নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি সামরিক হস্তক্ষেপ বা বিদেশি প্রভাব ছাড়াই জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার উপর জোর দিয়েছেন।
* জনপ্রিয়তা: তার বক্তব্য এবং রাজনৈতিক অবস্থান তরুণ ও নতুন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার বক্তব্যের ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
* নির্বাচনী প্রস্তুতি: বিভিন্ন সূত্র মতে, হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, যা তার প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন, তবে এনসিপি-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। এনসিপি নেতারা বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে, তারা পুরোনো ধারার আসন ভাগাভাগির রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ একাধিকবার বলেছেন:
"এনসিপিকে সংখ্যা দিয়ে মাপতে যাবেন না। আমরা বিক্রি হতে আসিনি।"
এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দলটি ক্ষমতায় যেতে না পারলেও 'পোষা' বিরোধী দল হতে প্রস্তুত নয়। বরং তারা এমন একটি সংসদ চায় যা জনগণের কথা বলবে এবং দেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করবে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য এনসিপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে হতে যাওয়া নির্বাচনেই হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো তরুণ নেতাদের প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তি বোঝা যাবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ যে দলটির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক, সেই দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এর রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে জানতে চান কি?

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন