শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫

আছাড় মেরে ছাত্রের হাত ভেঙে দিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক!

 
যশোর: শিশু শিক্ষার্থীনির্যাতনের এক ভয়ানক চিত্র সামনে এলো যশোরে। মাত্র ৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে সামান্য দোষের কারণে আছাড় মেরে তার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের উপর এক গভীর কালো ছায়া ফেলেছে এবং জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সূত্র মারফত জানা যায়, যশোর শহরের আর এন রোডের একটি হাফেজি মাদ্রাসায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে। নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রের নাম আব্দুল্লাহ। সে মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত ১৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুস সামী কোনো একটি কারণে আব্দুল্লাহকে প্রচণ্ড মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে আছাড় মারেন। শিশুটি মাটিতে পড়ে গেলে তার বাম হাত ভেঙে যায়।
আহত আব্দুল্লাহকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে মাদ্রাসার মধ্যেই লুকিয়ে রাখা হয়। কিন্তু তার বাবা রাসেল আহম্মেদ মাদ্রাসায় এসে ছেলের শারীরিক অবস্থা জানতে পারেন। ছেলের হাতে ব্যান্ডেজ দেখে তিনি অন্যদের কাছ থেকে বিস্তারিত ঘটনা শোনেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আছাড়ের কারণে শিশুটির হাতে মারাত্মক আঘাত লেগেছে এবং তার বাম হাত ভেঙে গেছে।
এরপর আব্দুল্লাহর বাবা রাসেল আহম্মেদ কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুস সামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, ছেলের কাছ থেকে এবং মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্র-শিক্ষকদের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জেনে তিনি এ অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটির প্রমাণ পাওয়া সম্ভব।
তবে অভিযোগ উঠেছে যে, অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুস সামী অতীতেও একাধিক ছাত্রকে মারধর করেছেন। যদিও মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সাইফুল তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুস সামী মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন না।

এই ধরনের নৃশংস ঘটনা শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকেই কলুষিত করে না, বরং অভিভাবকদের মনেও চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করে। পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিভাবক এবং সচেতন মহল এ ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
শিক্ষাঙ্গনে শিশু নির্যাতন বন্ধে এবং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এই বিষয়ে আপনার কোনো মন্তব্য বা অন্য কোনো ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান?


শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন