ঢাকা, ১৪ নভেম্বর ২০২৫: সম্প্রতি বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, 'আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না'।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ঠিক বলেছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন খবর পাওয়া গেলেও মূল বিতর্কের সূত্রপাত এই বক্তব্য ঘিরেই। যদিও অন্য কিছু সংবাদমাধ্যম প্রধান উপদেষ্টার একটি পূর্বের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল যে, 'আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে', তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নতুন মন্তব্যের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এর জবাবে তিনি সরাসরি 'পারবে না' এমন কথা বলেন। তবে তিনি এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচন কমিশন বা সংস্কার কমিশনের উপর ছেড়ে দিয়েছেন বলে কোনো কোনো সূত্র দাবি করছে।
অন্যদিকে, একটি সূত্রের মতে, প্রধান উপদেষ্টা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগের ওপর বর্তমানে যে ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা পরিবর্তন হতে পারে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টরা এই বিষয়ে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না।
ইতিমধ্যে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে 'পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে শক্ত ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান' নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি আরও বলেছেন যে, সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো শক্তিই তা বানচাল করতে পারবে না।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায়, তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্য সেই প্রশ্নকেই আরও জোরালো করেছে।
* রাজনৈতিক জটিলতা: বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা এবং তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা চলছে।
* সংস্কারের প্রশ্ন: দেশে চলমান সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কারের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের মতো একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা জানতে উৎসুক সবাই।
প্রধান উপদেষ্টার এই মন্তব্যকে একটি বড় রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকেই। তারা মনে করছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের গুরুত্ব আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হলো। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামো এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করবে।
দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান এই আলোচনা নিঃসন্দেহে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ‘বালেরখবর.কম’-এর পাঠকদের জন্য আমরা এই বিষয়ে সব পক্ষের তথ্য এবং সর্বশেষ আপডেট সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না,

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন