ঢাকা: সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। প্রবাসীদের স্ত্রীদের গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ না করার 'অপরাধে' সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, এমনটাই 'ঘোষণা' দিয়েছেন জনৈক 'প্রধান উপদেষ্টা'। দেশের বিভিন্ন মহল থেকে এমন একটি ভিত্তিহীন ও অদ্ভুত বক্তব্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। তবে, 'বালেরখবর.কম' পাঠকদের মনোরঞ্জনের জন্য এই 'গুরুত্বপূর্ণ' বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছে।
আসলে কী বলা হয়েছে?
যদিও এই ঘোষণার কোনো সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই, তবুও ভাইরাল হওয়া একটি প্রচারপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে যে, প্রবাসীদের পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ অত্যন্ত জরুরি। আর কোনো স্ত্রী যদি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঋণ না নেন, তবে সেটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বাধা হিসেবে গণ্য হবে এবং এর শাস্তি হিসেবে 'সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড' হতে পারে। 'প্রধান উপদেষ্টা' হিসেবে যিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে, তিনি কে বা তার পদমর্যাদা কী, সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।
বাস্তবতা কী বলে?
বাস্তবে, গ্রামীণ ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করা বা না করা সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তির ইচ্ছাধীন। কোনো ব্যাংক বা সরকার কাউকে জোর করে ঋণ নিতে বাধ্য করতে পারে না, এবং ঋণ না নিলে মৃত্যুদণ্ডের মতো চরম শাস্তির বিধান থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। দেশের প্রচলিত আইনে এমন কোনো ধারা নেই যা এমন অদ্ভুত কোনো শাস্তির বিধান রাখে।
তবে, এটা ঠিক যে গ্রামীণ ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের ঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। যেমন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বিদেশগামী কর্মীদের জন্য জামানতবিহীন অভিবাসী ঋণ এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য 'বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ' প্রদান করে। এই ঋণগুলো সহজ শর্তে দেওয়া হয় এবং মহিলাদের জন্য সুদের হারে বিশেষ ছাড়ও থাকে। কিন্তু এই ঋণগুলো নেওয়া সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।
বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া (মনোরঞ্জনের জন্য):
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন 'অর্থনৈতিক বিশ্লেষক' আমাদের জানান, "বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর! স্ত্রীরা যদি ঋণ না নিয়ে ঘরে বসে থাকেন, তবে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরবে কীভাবে? প্রধান উপদেষ্টা হয়তো এই চাকা ঘোরানোর জন্যই এমন কঠোর শাস্তির বিধানের কথা ভেবেছেন। এটা এক ধরণের 'অর্থনৈতিক মোটিভেশন', হয়তো!"
অপরদিকে, একজন 'সমাজবিজ্ঞানী' হাসতে হাসতে বলেন, "যদি ঋণ না নিলেই মৃত্যুদণ্ড হয়, তবে যারা ঋণ নিয়ে শোধ করতে পারে না, তাদের কী হবে? বিষয়টা হাস্যকর হলেও, এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে মানুষ কতটা আগ্রহ নিয়ে ঋণ সংক্রান্ত খবর ফলো করে। তবে, পাঠকদের মনে রাখা উচিত, গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য, মৃত্যুদণ্ড বিতরণের জন্য নয়!"
পাঠকদের প্রতি আহ্বান:
'বালেরখবর.কম' সব সময়ই মজার এবং চাঞ্চল্যকর খবর পরিবেশন করে পাঠকের মনোরঞ্জন করে। তবে, সিরিয়াস তথ্যের জন্য সর্বদা নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম ও সরকারি ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। গ্রামীণ ব্যাংক বা যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের নিয়মকানুন প্রচলিত আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ঋণ না নিলে মৃত্যুদণ্ড, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, গুজব এবং হাস্যকর একটি ধারণা।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি শুধুমাত্র ভাইরাল হওয়া একটি ভিত্তিহীন তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি 'মনোরঞ্জক' সংবাদ। প্রচারিত বক্তব্যের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংক, প্রধান উপদেষ্টা বা দেশের আইনের কোনো সম্পর্ক নেই।)

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন