শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫

বলাৎকারের শ্রেষ্ঠ স্থান মাদ্রাসা

 বলাৎকারের শ্রেষ্ঠ স্থান মাদ্রাসা

মাদ্রাসায় বলাৎকার: এক কলঙ্কজনক অধ্যায়!



বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, ফেসবুক এবং ইউটিউবে মাদ্রাসায় শিক্ষক কিংবা অন্যদের দ্বারা শিশু-কিশোরদের বলাৎকার ও যৌন নির্যাতনের একাধিক ঘটনার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা শিক্ষার পবিত্র পরিবেশকে কলুষিত করছে এবং সমাজের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। 'জনকণ্ঠ'-এর শিরোনাম অনুসারে, মাদ্রাসাকে যদি বলাৎকারের শ্রেষ্ঠ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে তার পেছনে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অপরাধগুলোর চিত্রই ফুটে ওঠে।

যা জানা যাচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে:

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসায় বলাৎকার ও যৌন হয়রানির ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে বারবার এসেছে।

  • শিক্ষকেরাই অভিযুক্ত: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাদ্রাসার শিক্ষক বা অন্যান্য কর্মচারী, এমনকি সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও বলাৎকার বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

  • শিশু-কিশোররাই শিকার: এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সাধারণত খুবই কোমলমতি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে।

  • কওমি মাদ্রাসার চিত্র: শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রকসহ অনেক বিশ্লেষকই উল্লেখ করেছেন যে, আলিয়া মাদ্রাসার চেয়ে কওমি ধারার মাদ্রাসাগুলোতেই এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। দারিদ্র্য এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা এমন কাজ করার সাহস পাচ্ছে।

  • ভয়ঙ্কর বর্ণনা: সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, নির্যাতিত শিশুদের মুখে বলাৎকারের লোমহর্ষক বর্ণনা শুনে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে যান।

  • আইনি পদক্ষেপ: এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মামলা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের শাস্তিও হয়েছে। তবে কখনও কখনও প্রভাবশালী মহল বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে।

  • সামাজিক ট্যাবু: বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় কারণে এক ধরনের শ্রদ্ধা থাকায় অনেক যৌন হয়রানির ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে মুখ খুলতে ভয় পায়। তবে নুসরাত জাহান রাফি'র মতো সাহসী কিছু পদক্ষেপ এই ট্যাবু ভেঙে দিয়েছে এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশে উৎসাহিত করেছে।

আমাদের কথা:

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সে যেই ধারারই হোক, তা হওয়া উচিত নিরাপদ ও ভরসার জায়গা। কিন্তু সেখানে যদি কোমলমতি শিশুরা এমন পাশবিকতার শিকার হয়, তবে তা সমগ্র জাতির জন্য লজ্জার। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে মাদ্রাসার মতো আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ও সতর্ক হতে হবে। দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি, যাতে এই ধরনের জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। শিক্ষার পরিবেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।


শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন