মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

হাশরের ময়দানে শুধু দাঁড়িপাল্লা মার্কা থাকবে: জামায়াত প্রার্থী!


বিশেষ প্রতিনিধি:
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে চলছে গরম হাওয়া। একদিকে যেমন প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ছুটছেন, অন্যদিকে চলছে নানা বিতর্কিত মন্তব্য। তেমনই এক মন্তব্যের জেরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থী।
সম্প্রতি একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত প্রার্থী বলেছেন, "হাশরের ময়দানে শুধু দাঁড়িপাল্লা মার্কা থাকবে!"
তার এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াসহ রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তব্যের সময় ওই প্রার্থী ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআনে বর্ণিত শেষ বিচারের দিনের (হাশর) চিত্র তুলে ধরছিলেন। তিনি বলেন, সেদিন সব মানুষের কর্মের বিচার করা হবে। সেই বিচারের জন্য সেখানে থাকবে 'মিযান' বা দাঁড়িপাল্লা।
প্রার্থী তার বক্তব্যে ধর্মীয় অনুষঙ্গকে রাজনৈতিক প্রতীকের সাথে মিলিয়ে দিয়ে বলেন, "কেয়ামতের মাঠে শুধু দাঁড়িপাল্লা (মিযান) থাকবে। সেখানে আল্লাহ মানুষের কর্মফল দাঁড়িপাল্লায় মাপবেন। সেই দাঁড়িপাল্লায় মাপা হবে আপনার দুনিয়ার জীবনের সব কাজ।"
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, শেষ বিচারের দিন মানুষের ভালো-মন্দ কাজের হিসেব ওজন করার জন্য দাঁড়িপাল্লা (মিযান) স্থাপন করা হবে। জামায়াত প্রার্থীর এই বক্তব্য মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাজনৈতিক প্রতীক 'দাঁড়িপাল্লা'-কে একীভূত করে দিয়েছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য, এই দাঁড়িপাল্লা মার্কা একসময় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রতীক ছিল, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত প্রার্থী পুরনো প্রতীকটির প্রতি কর্মীদের আবেগ এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। ধর্মীয় প্রতীকের সাথে রাজনৈতিক প্রতীককে মিলিয়ে দিয়ে তিনি প্রকারান্তরে তার দলের পুরোনো প্রতীকটির গুরুত্ব নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এমন মন্তব্যকে অনেক সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদরা 'ধর্মীয় আবেগের অপব্যবহার' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তারা বলছেন, রাজনীতিতে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের এমন প্রচেষ্টা ধর্ম এবং নির্বাচন দুটোর জন্যই ক্ষতিকর। হাশরের ময়দান কোনো রাজনৈতিক স্লোগান বা নির্বাচনী প্রচারের স্থান হতে পারে না।

প্রার্থীর এই বক্তব্যের ভিডিও ও অংশবিশেষ সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
 অনেকে এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে একে 'ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার' বানানোর চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। আবার জামায়াত-সমর্থক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে মন্তব্যটির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হচ্ছে, এটি ধর্মীয় উপমা ব্যবহার করে কর্মীদের অনুপ্রাণিত করার একটি প্রচেষ্টা মাত্র।
 নির্বাচন কমিশন: এই ধরনের মন্তব্যের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে।
 অন্যান্য রাজনৈতিক দল: বিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক নেতারা এই মন্তব্যকে 'ফ্যানাটিক' এবং 'রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব' বলে মন্তব্য করেছেন।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে সৃষ্ট এই বিতর্ক জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।




শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন