নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ছয় আসামির মধ্যে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত শুক্রবার (৮ নভেম্বর) ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনার পর মামলা দায়ের হলে নড়েচড়ে বসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজনকে এই মামলার মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।
গ্রেপ্তার ও ঘটনার বিস্তারিত
র্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল গতকাল সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
মূলহোতা গ্রেপ্তার: গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মামলার প্রধান আসামি মো. শফিক (২৪)।
মামলা দায়ের: গত শনিবার (৯ নভেম্বর) ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
অন্যান্য আসামিরা: মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন: সাইদুল (৪৯), নাজমুল হোসেন (২১), শামসু (২৮), ফয়সাল (২৪) এবং রাশেদ (২২)।
যেভাবে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল তরুণীকে
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার নেপথ্যে ছিল বন্ধকী জমির দলিল সংক্রান্ত পুরনো একটি আর্থিক লেনদেন।
আর্থিক লেনদেন: ভুক্তভোগী তরুণীর মায়ের বিদেশে যাওয়ার আগে অভিযুক্তদের একজনের কাছ থেকে বন্ধকী চুক্তির মাধ্যমে টাকা ধার নিয়েছিলেন।
দলিল ফেরত না দেওয়া: টাকা পরিশোধ করার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি জমির দলিল ফেরত দিতে টালবাহানা করে আসছিলেন।
ফাঁদে ফেলা: গত শুক্রবার অভিযুক্তরা দলিল ফেরত দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী তরুণীকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি দশপাইপ এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়।
সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: সেখানে তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তরা শারীরিকভাবে নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।
পালিয়ে যাওয়া: ঘটনার পর অভিযুক্তরা তরুণীকে সাইনবোর্ড এলাকায় নামিয়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত মূলহোতা শফিককে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


0 coment rios:
আপনার মতামত দিন