বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫

জামায়াতের হাতে আওয়ামী লীগের বিচার চাই না: তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজনীতির মসনদে এখন টালমাটাল পরিস্থিতি, আর এই সুযোগে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক বিস্ফোরক মন্তব্যে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিচার কোনো প্রতিশোধের আগুনে হবে না, কিংবা জামায়াতে ইসলামীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা—জনগণই চূড়ান্ত বিচারক, আর আওয়ামী লীগের অপকর্মের বিচার হবে কেবল দেশের প্রচলিত আইন ও নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।




দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন চরম উত্তাল, ঠিক তখনই তারেক রহমানের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একাধিক সূত্র মতে, তারেক রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে আওয়ামী লীগের সব অপকর্মের বিচার হওয়া উচিত দেশের আইন মেনে। তিনি বারবার জোর দিয়েছেন, এই বিচার হবে প্রতিহিংসা নয়, বরং ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা। তিনি মনে করেন, যে কোনো অন্যায়কারী—সে ব্যক্তি হোক বা রাজনৈতিক দল—তাদের দেশের আইনেই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এর মাধ্যমে তিনি এক প্রকার বার্তা দিলেন যে, বিরোধী দল ক্ষমতায় এলেও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় হাঁটবে না, বরং নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখবে।

তারেক রহমানের এই অবস্থানের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন তার জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারাও। জামায়াতের আমির সম্প্রতি এক বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা অবিচার জুলুম কারও ওপর চাই না। তারা (আওয়ামী লীগ) দীর্ঘদিন যেসব কালাকানুন আইন তৈরি করেছিল, তাই দিয়েই তাদের বিচার হতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, বিরোধী দল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আইন হাতে তুলে নিয়ে কোনো প্রতিশোধ নেবে না। এই বক্তব্যের মূল সুর তারেক রহমানের মন্তব্যেরই প্রতিধ্বনি—অর্থাৎ, প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের সকল কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় বিরোধী শিবির।

তারেক রহমান মনে করেন, দেশের মানুষই হচ্ছে সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস এবং জনতাই সকল অপকর্মের চূড়ান্ত বিচারক। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যারা মানুষ খুন করে, গুম করে, দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করে, জনগণ সেই রাজনৈতিক শক্তিকে কখনই সমর্থন করতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "বিএনপি যেহেতু জনগণের ক্ষমতা ও সিদ্ধান্তে বিশ্বাস করে, তাই আমরা জনগণের রায়ের ওপর আস্থা রাখতে চাই।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই বক্তব্য চলমান আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি জোটের রাজনৈতিক অবস্থানকে আইনি ও নৈতিক ভিত্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যেখানে আওয়ামী লীগের বিচার হবে একটি আইনি বাধ্যবাধকতা, কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের খেলা নয়। দেশের মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, এই বিচারের দাবির পরিণতি কী দাঁড়ায়।


শেয়ার করুন

Author:

বালেরখবর.কম - পাঠকদের মনোরঞ্জন এবং চটকদার খবর পরিবেশন, প্রয়োজনে সঠিক তথ্যও তুলে ধরা।

0 coment rios:

আপনার মতামত দিন