বোরকা নিষিদ্ধের পথে ইউরোপসহ আরও বহু দেশ!
ইউরোপজুড়ে এবং বিশ্বের আরও অনেক দেশে মুসলিম নারীদের অন্যতম পোশাক বোরকা বা নেকাব নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে এই ধরনের পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, এবং এই বিষয়ে বিতর্ক ও আইন প্রণয়নের কাজ চলছে আরও বহু দেশে। জননিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক সমন্বয় এবং নারী স্বাধীনতা - এই তিনটি মূল কারণকে কেন্দ্র করে এই নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যকর করা হচ্ছে।
ইউরোপে বোরকা নিষেধাজ্ঞার চিত্র:
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সই ছিল প্রথম দেশ, যারা ২০১১ সালে জনসম্মুখে সম্পূর্ণ মুখ ঢাকা পোশাক (বোরকা/নেকাব) নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করে। এরপরে বেলজিয়াম (২০১১), নেদারল্যান্ডস (আংশিক, ২০১৯ থেকে কার্যকর), অস্ট্রিয়া (২০১৭), ডেনমার্ক (২০১৮), বুলগেরিয়া (২০১৬) এবং সুইজারল্যান্ডে (২০২১ সালের গণভোটের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর) একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
* ফ্রান্স ও বেলজিয়াম: এই দেশগুলিতে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সম্পূর্ণ মুখ ঢাকা পোশাক পরা নিষিদ্ধ।
* নেদারল্যান্ডস: স্কুল, হাসপাতাল, এবং গণপরিবহনের মতো নির্দিষ্ট কিছু স্থানে আংশিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
* সুইজারল্যান্ড: সম্প্রতি গণভোটের মাধ্যমে জনসমক্ষে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের আইনটি কার্যকর হয়েছে।
* জার্মানি ও ইতালি: জার্মানির কিছু রাজ্য ও ইতালির কিছু শহরে বোরকা বা নেকাবের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ইউরোপের বাইরেও বিশ্বের বহু দেশে এই পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ার মুসলিম-প্রধান দেশ তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান, এবং আফ্রিকার চাদ, ক্যামেরুন, তিউনিসিয়া, এবং গ্যাবনও রয়েছে। এসব দেশে প্রধানত জননিরাপত্তা এবং চরমপন্থা দমনের কারণ দেখানো হয়েছে। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মাত্রার নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বের প্রায় ২০টিরও বেশি দেশে এই ধরনের পোশাক নিষিদ্ধ বা সীমিত করা হয়েছে, এবং আরও ৩০টি দেশে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা যায়।
বিতর্ক ও কারণ:
বোরকা নিষেধাজ্ঞার পক্ষের যুক্তি হলো, জননিরাপত্তার জন্য মানুষের মুখমণ্ডল উন্মোচিত থাকা জরুরি। এছাড়া, কিছু মানুষ এটিকে পশ্চিমা সমাজের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের জন্য বাধা হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে, সমালোচকরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নারী অধিকারের পরিপন্থী এবং মুসলিম নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক।
মোট কথা, বোরকা বা নেকাব নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আগামীতে আরও অনেক দেশ এই পথে হাঁটবে কিনা, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে জোর আলোচনা।

0 coment rios:
আপনার মতামত দিন